Wellcome to National Portal
মেনু নির্বাচন করুন
Main Comtent Skiped

কোলকোন্দ ইউনিয়নে আপনাকে স্বাগতম, কোলকোন্দ ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারের যে কোন সেবা পেতে- WhatsApp-01767511512, Email- milon595@gmail.com, udc5410@gmail.com


কোলকোন্দ ইউনিয়নের ইতিহাস

কোলকোন্দ ইউনিয়নের ইতিহাস ও ঐতিহ্যঃ

রংপুর জেলার গংগাচড়া উপজেলাধীন ০২নং ইউনিয়নটি কোলকোন্দ ইউনিয়ন নামে পরিচিত। নদী বিধৌত বালুকাময় চরের উত্তাপ ঘেষে প্রকৃতির নয়নাভিরাম সৌন্দর্যে ভরা কোলকোন্দ ইউনিয়ন রংপুর জেলার গংগাচড়া উপজেলার মধ্যে অবিস্থত। ১২ জন বীরমুক্তিযোদ্ধা এ ইউনিয়ন থেকে ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে দেশকে শত্রমুক্ত করতে অস্ত্রহাতে ঝাপিয়ে পড়েছিল। রংপুর জেলা সদর হতে উত্তরপূর্ব দিকে ১৭ কিলোমিটার, গংগাচড়া উপজেলা সদর হতে উত্তর দিকে ৬ কিলোমিটার দুরে কোলকোন্দ ইউপি কমপ্লেক্সভবন। কোলকোন্দ ইউনিয়নের দক্ষিন পূব দিকে ৪নং গংগাচড়া ইউনিয়ন, দক্ষিন পশ্চিমে উপজেলার বড়বিল ইউনিয়ন, পশ্চিমে আলমবিদিতর ইউনিয়ন পরিষদ, উত্তর পশ্চিমে কালিগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদ, উত্তর পূর্বে কাকিনা ইউনিয়ন পরিষদ অবস্থিত। উত্তর দিকে খরস্রোতা তিস্তা নদী, তিনটি ওয়ার্ডের পার্শঘেষে এবং একটি ওয়ার্ডের মধ্যদিয়ে প্রবাহিত। একাধিক বিল রয়েছে এ ইউনিয়নে। ইউনিয়নের অধিকাংশ মানুষ কৃষিজীবি। এছাড়া চাকুরীজীবি, দিনমজুর, ব্যবসায়ী ও অন্যান্ন পেশাজীবি মানুষ রয়েছে। মংগাপীড়িত এ ইউনিয়নের প্রায় ৪/৫ হাজার নারী ও পুরুষ জীবিকার তাগিদে ঢাকা সিলেট গাজীপুরসহ দেশের বিভিন্নস্থানে গিয়ে কাজ করেন। এখানকার অধিকাংশ মানুষ ধার্মিক। যোগাযোগ ব্যবস্থার তেমন কোন উন্নয়ন ঘটেনি। ব্যক্তিগত বাইসাইকেল, মটরবাইক, রিক্সা, অটোরিক্সা, ভ্যান ইত্যাদি দ্বারা মানুষ চলাচল করেন। চরাঞ্চলের মানুষ ঘোড়ার গাড়ি ও পায়ে হেটে চলাচল করেন। ইউনিয়ন পরিষদটি তিস্তা নদীর পাশ ঘেষে অবস্থিত বিধায় নদীর অপর পাশের লোকজন নৌকাদ্বারা নদী পাড়াপার হয়ে ইউনিয়ন পরিষদে যাওয়া আসা করেন। ঐতিহ্যবাহী গোডাউনের হাট এই ইউনিয়নে অবস্থিত। রংপুর ও লালমনিরহাট জেলার সংযোগস্থলে তিসত্মা নদীর তীরবর্তী সুজলা-সুফলা, শস্য-শ্যামলা পলি, দোঁআশ, এটেল, লাল ও বালু মাটিতে অবস্থিত ২নং কোলকোন্দ ইউনিয়ন। কোলকোন্দ ইউনিঢনের কুঠিপড়ায় ঘাঘট নদীর কাছে গংগা নদীর উৎপত্তি। যাকে নদীর মাথার কান্দ বা কাঁধ বলা যায়। এখান থেকে কোন্দ এসেছে এবং নদীটি প্রবাহের সময় ইউনিয়নের পেটের ভিতর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে; যাকে কোল বলা হয়। এভাবে কোলকোন্দ নাম হয়েছে। অথবা জনশ্রতি আছে যে ব্রিটিশের চামশা দেবীসিংহ ও হরেরামের লাঠিয়াল বাহিনী বর্তমান পীরের হাটে (যা তখন ডাঙ্গা ছিল) খাজনা আদায়ের জন্য তাবু ফেলেছিল। এই এলাকার মানুষ ব্রিটিশদেরকে খাজনা দিতে অস্বীকার করেছিল। ফলে স্থানীয় লাঠিয়াল বাহিনীর সাথে তাদের লড়াই হয়। এতবব্রিটিশ লাঠিয়াল বাহিনী পরাজিত হয় এবং মৃত্যু বরণ করে। এই কোলন্দ হয়েছিল ইউনিয়ন পরিষদের মাঝখানে। তাই কোলকোন্দল থেকে কোলকোন্দ নাম হয়েছে। কোলকোন্দ ইউনিয়নের আয়তন ৩৪.৬৯ বর্গমাইল। ১০টি মৌজা নিয়ে গঠিত এ ইউনিয়নের জনসংখ্যা- ৪১, ৫৮৫জন (২০২১ সালে ভোটার তালিকা অনুযায়ী) তন্মধ্যে পুরম্নষ- ২০,৯৩৫ জন, মহিলা- ২০,৬৫০জন। ৩টি উচ্চ বিদ্যালয়, ২ টি ফাজিল মাদ্রাসা, ১৭টি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, ও ৩টি হাফেজিয়া মাদ্রাসা এই ইউনিয়নে অবস্থিত। শিক্ষার হার প্রায় ৬৪.৫ শতাংশ। ৫৪টি মসজিদ ও ১৯টি মন্দির এই ইউনিয়নে অবস্থিত। ১টি এজেন্ট ব্যাংকসহ ইএসডিও, দি হাঙ্গার, ইসলামিক রিলিফ বাংলাদেশ ও অন্যান্য এনজিও-র মাধ্যমে কোটি কোটি টাকার লেনদেন প্রতিদিন এখানে হয়ে থাকে । ১টি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র, ৩টি কমিউনিটি ক্লিনিক আছে যার মাধ্যমে প্রতিনিয়ত সাধারণ মানুষ স্বাস্থ্যসেবা পাচ্ছেন।

দর্শনীয় স্থানঃ কোলকোন্দ ইউনিয়নের তিসত্মা নদীর উপর নির্মিত ০২টি গ্রয়িং বাঁধ এ ইউনিয়নের একটি দর্শনীয় স্থান । এখানে প্রতিদিন বিকেলে অনেকে বিনোদন ও তিসত্মা নদীর সৌন্দর্য উপভোগ করার জন্য আসে।

উপসংহারঃ সুজলা-সুফলা, শস্য-শ্যামলা, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যের লীলাভূমি এই কোলকোন্দ ইউনিয়ন। অপার সম্ভাবনাময় কৃষি বান্ধব অঞ্চল কোলকোন্দ ইউনিয়ন। এখানকার বাদাম, গম, ভুট্টা ও আলু হচ্ছে প্রদান কৃষি নির্ভর। কৃষি খাতে সরকারী ভাবে উৎপাদন বৃদ্ধির ব্যবস্থা করে পর্যটকগণের দৃষ্টি আকৃষ্ট করবার মতো করে গড়ে তুললে সরকারের রাজস্ব আয় বৃদ্ধি পাবে এবং দেশের অর্থনীতিতে ভুমিকা রাখতে সক্ষম হবে বলে সচেতন সমাজ মনে করেন।

এই ইউনিয়নে মুসলিম, হিন্দু, হরিজন সম্প্রদায়ের বা জাতিধর্মের মানুষের বসবাস।