গতকাল বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে রংপুর জেলা পরিষদ সুপারমার্কেটের পাশে রাধার সঙ্গে দেখা হলো। জেলা পরিষদ সুপারমার্কেটের পাশে ট্রাফিক আইল্যান্ডের সামনে রাস্তার পাশে বসে শাক বিক্রি করছিলেন তিনি। জানালেন, গঙ্গাচড়া উপজেলার ধামুর এলাকায় তাঁর বাড়ি। সেখান থেকে প্রায় ১২ কিলোমিটার দূরের এলাকা থেকে নানা ধরনের শাক নিয়ে শহরে আসেন বিক্রি করতে। শুক্র ও শনিবার ছাড়া পাঁচ দিনই সন্ধ্যার পর শাক বিক্রি করেন।
রাধার ভ্যান গাড়িতে থরে থরে সাজিয়ে রাখা হয়েছে কচুশাক ও চামগাছ। প্রতি আঁটি কচুশাক ১৫ আর চামগাছ ১০ টাকা। বিক্রিও মন্দ নয়। এখান থেকে যা লাভ হয়, তা দিয়ে মা-মেয়ের সংসার চলে যায়।

টাটকা শাক বিক্রির জন্য ভ্রাম্যমাণ এই বাজারে রাধার খ্যাতি আছে
ছবি: প্রথম আলো
স্বামীর কথা জিজ্ঞাসা করতেই রাধা বললেন, ‘স্বামীক বাদ দিছোও (দিয়েছি)। বিয়ার পর মাত্র আট দিন সংসার হইছে। নেশা করত। পরে স্বামীক বাদ দিয়া বাড়িত চলি আসছোও।’
বাবা কীভাবে মারা গেছেন জানতে চাইলে বলেন, ‘তিস্তা নদীত মাছ ধরতে যায়া আকাশ থাকি পরা চরোকে (বজ্রপাত) মারা গেছে। তখন আমার বয়স মাত্র ১৯ দিন। এরপর মা আমাকে বড় করেছে। আমিই একমাত্র সন্তান।’ রাধারানীর বাবার নাম উমাকান্ত। আর মায়ের নাম সুখসারি।
এক যুগেরও বেশি সময় ধরে শাক বিক্রি করে গঙ্গাচড়া সদর ইউনিয়নের ধামুর এলাকায় এক শতক জমিও কিনেছেন রাধা। সেখানে টিনের ঘর তুলে মাকে নিয়ে বসবাস করেন। শুক্র ও শনিবার বাড়ির কাজ করেন। তিস্তা নদীর চর থেকে ভুট্টাগাছ সংগ্রহ করে শুকিয়ে জ্বালানির জন্য ব্যবহার করেন।
শাক বিক্রি করে প্রতিদিন আয়রোজগার হয় ৪০০-৫০০ টাকা। আবার কোনো দিন বেশিও হয়। এই টাকা দিয়ে চাল, ডালসহ নিত্যপণ্য কিনে থাকেন। তবে বেশি টাকা ব্যয় হয় মায়ের চিকিৎসার জন্য।
সন্ধ্যার পর ১২ কিলোমিটার দূরের গঙ্গাচড়া থেকে ছুটে আসা রাধা রানী রাত ১টা পর্যন্ত শহরে শাক বিক্রি করেন। এরপর একাই অটোরিকশায় চড়ে বাড়িতে ফেরেন। রাধা রানীকে ওই বাজারের কম–বেশি সবাই চেনেন। নিজে বেঁচে থাকতে আর মাকে ভালো রাখতে তিনি অক্লান্ত পরিশ্রম করছেন। মানুষের কাছে হাত না পেতে কর্মমুখী হয়েছেন।